শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, আরও কয়েকদিন তীব্র শীতের আভাস
দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে এই পরিস্থিতি থাকতে পারে, তবে ১০ জানুয়ারির পর ধীরে ধীরে শীত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
সিনপটিক অবস্থায় জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, যা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা টেকনাফে ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজশাহীতে এটাই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ১০ জানুয়ারির পর ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষ করে মঙ্গল ও বুধবার ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।



